ক্যাম্পাসিং-এ এর সময় চাকরি না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করলেন IIT হায়দ্রাবাদের অন্তিম বর্ষের এক ছাত্র

Reading Time: 3 minutes

নিউক্র‍্যাড হেলথ বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদন

অ‍্যাকাডেমিক চাপ সহ্য করতে না পেরে এই বছর ২রা জুলাই আইআইটি হায়দ্রাবাদের ২0 বছর বয়সী এক তরুণ আত্মহত্যা করে নিলেন। মৃতের নাম অ্যান্ড্রু চার্লস স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অ্যান্ড্রু চার্লস উত্তর প্রদেশের, বারানসী জেলার নারিয়া-লঙ্কা এলাকার থেকে হায়দ্রাবাদে এসেছিলেন পড়াশোনার জন্য। তিনি ডিজাইনিংয়ের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর করছিলেন।
তিনি আত্মহত্যার আগে আট পৃষ্ঠার একটি সুইসাইডাল নোট রেখে গেছিলেন। যেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে ভাল মানের স্কোর করতে না পেরে এবং ক্যাম্পাসিং-এর সময় কোনও ভালো কোম্পানিকে সুযোগ না পাওয়াতেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। মার্ক সোমবার (১ জুলাই ) রাতে তার ঘরে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরের দিন তাকে দেখেননি। ২ জুলাই তাঁর বন্ধুরা তাকে ডাকাডাকি করে না পেয়ে দরজা ভেঙে রুমে খোলার সিদ্ধান্ত নেন, আর তারপরেই তারা অ‍্যান্ড্রুকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
অত্যাধিক বেশি মানসিক চাপ এবং ডিপ্রেশনের জেরেই অ‍্যান্ড্রু এরকম হঠকারী নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অ্যান্ড্রুর কিছু দিন আগেই ২০১৯ এরই ফেব্রুয়ারি মাসে মেক‍্যানিক‍্যাল ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অনিরুদ্ধ মুয়ান্নেন, সাত তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। অনিরুদ্ধ ও তার সুইসাইডাল নোটে উল্লেখ করে গিয়েছেন যে IIT, অ‍্যাকাডেমিক এক্সপেক্টেশন ধরে রাখতে একটি ছাত্রের উপর প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করা হয়,তার আর সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তিনি।

IITর মত ঐতিহ্যপূর্ণ এই জায়গায় পর পর দুজন কৃতি ছাত্রের আত্মহত্যায়, এখানে পড়াশোনার পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে.. যে একজন ছাত্রকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে?

বর্তমান অবস্থায় পড়াশোনার চাপ এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে ক্রমশ সেটা শিশু থেকে তরুণের ওপর ক্রমশ বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলে অজান্তেই তারা ডিপ্রেশনের শিকার হচ্ছে। আর তার থেকেই তারই ফলস্বরচপ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার ফুলের মত প্রাণ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ! কিছুদিন আগেই কলকাতা শহরের এক দশম শ্রেণীর কৃতি ছাত্রী ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছে।

অ‍্যাকাডেমিক সমস্যার কারণে বিষণ্নতার মোকাবেলা কীভাবে করা সম্ভব?
ভারতে প্রথম সারির শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের একগুচ্ছ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়, আর এই পরীক্ষাগুলিতে অবিশ্বাস্য রকমের প্রতিযোগিতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীরা এইধরনের পরীক্ষায় সফলতা অর্জনের জন্য বিশাল অঙ্কের কোর্স ফি দিয়ে কোনো নামী কোচিং সেন্টারে গিয়ে ভর্তি হয়। এত চাপের মধ্যে দিয়ে গিয়ে সুযোগ পাওয়ার পরও, যখন তারা মনোমত ফলাফল করতে পারে না, তখনই তারা ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করে।

সামাজিক সংযোগ বজায় রাখুন:-
স্নাতক বা স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নের জন্য একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে সর্বদা সহপাঠীদের মেলামেশা করুন এবং সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক করুন। বিশেষত যখন হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা ক‍্যছছন, অন‍্যানদের সাথে সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি যে কোন পরিস্থিতিতে সবসময় বন্ধুদের সাথে পাবেন পাবেন এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে উঠবে। আপনার মনের মধ্যে নেতিবাচক ভাবনা বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে না। উপরন্তু, আপনি কোনো বিষয়ে পিছিয়ে যান, তাহলে গ্রুপ স্টাডি করতে পারেন, এতে আপনার অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আপনার শখগুলি বজায় রাখুন:-
গঠনমূলক ধারণাগুলিতে বিনামূল্যে সময় ব্যয় মানসিক চাপ কমাতে ও য়নের শান্তি বাড়ানোর একটি অন্যতম উপায়। এক্ষেত্রে ফটোগ্রাফি, পেইন্টিং, পচ্ছন্দমত কোনো বাদ‍্যযন্ত্র বাজানো বা ফাইন আর্টসের অন‍্য যে কোনো একটি দিকের সাথে যুক্ত থাকাই যায়। অধিকাংশ প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিভিন্ন শখগুলির জন্য ক্লাব রয়েছে। আপনি এই গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য হয়ে উঠেছে পারেন, আপনি ফ্রী টাইম এখানে কাটাতে পারবেন। উপরন্তু, এই দক্ষতা অন্বেষণ আপনার কলেজে আপনাকে স্বীকৃতি অর্জন সাহায্য করবে।

যদি পেশাদার মনোবিদের সাহায্য লাগবে মনে করেন, লজ্জায় পিছিয়ে যাবেন না:-
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসিক চাপ উদ্বেগ সমস্যা গুলি কোন একজন ভাল পেশাদার মনোবিদের সাহায্য নিয়ে কাউন্সেলিং এর সাহায্যে আমরা সম্পূর্ন সারিয়ে তুলতে পারি থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।
নবীদের বিশেষজ্ঞেরা আপনার সমস্যা গুলি শুনে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
অনেক সময় ওষুধ বা মেডিটেশন নেওয়ার জন্য তারা পরামর্শ দেয়। আপনার যদি কখনো মনে হয় যে আপনার কোন মানসিক কোন সমস্যা হচ্ছে, এই জন্য আপনার কোন বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন, তাহলে কখনোই লোকলজ্জার ভয়ে পিছিয়ে আসবেন না। এতে অনেক সময় অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নিয়মিত যোগব্যায়াম করা অভ‍্যাস করুন:-
প্রতিদিন অন্তত আধা ঘন্টা করে বা যোগব্যায়াম বা ধ্যানের মত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন, এগুলো মনের চাপ কমাতে সাহায্য করে। অধিকাংশ কলেজে শিক্ষার্থীদের বিনোদন জন্য একটি জিম এবং ধ্যান কেন্দ্র আছে। নিয়মিতভাবে এগুলি ব্যবহার করে এমন একটি অভ্যাস গড়ে তুলুন, যাতে আপনি সুস্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তি বজায় রাখতে পারেন।

নিউক্র্যাড স্বাস্থ্য কথা – সুস্থ পরিবার, সুস্থ সমাজ । নিউক্র্যাড হেলথ পড়ুন আর স্বাস্থ্য বিজ্ঞান তথ্য সংগ্রহ তে এগিয়ে থাকুন ! শেয়ার করে আমাদের সমাজের সচেনতা বাড়াতে সহযোগিতা করুন । আপনারা পেজ টি লাইক করুন ।

ধন্যবাদান্তে,
ড: বিশ্বরূপ ঘোষ, গবেষক, আমেরিকায় কর্মরত

Write your comments

%d bloggers like this: