করোনার ফলস্ নেগেটিভ টেস্ট নিয়ে কিন্তু ভাবার সময় এসেছে

Reading Time: 4 minutes

নিউক্র্যাড হেলথ বাংলা এপ্রিল 20, 2020

ভারত বর্তমানে COPVID-19 এর স্টেজ -3 এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। এমন অবস্থায়, প্রচুর পরিমাণে পরীক্ষা করা, টেস্ট পসিটিভ রোগীদের অনুসর্গ অনুসারে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই মহামারীর ছড়িয়ে পড়া থামাবার একমাত্র পন্থা – এমনই মনে করে নিউক্র্যাড হেলথ এর ফাউন্ডার ও গবেষক বিশ্বরূপ ঘোষ। যাইহোক, এমত অবস্থায় অনেক ডাক্তারই জানিয়েছেন করোনার টেস্ট করার ‌সময়, রেজাল্ট ফলস নেগেটিভ পাওয়া যাচ্ছে।
এখানে, রোগীরা প্রাথমিক পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট এলেও, পরবর্তী সময়ে তারা COVID-19 সংক্রমণের লক্ষণগুলি দেখাতে শুরু করে। সেইসময় দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করলে করোনা পজেটিভ রেজাল্ট আসছে।
এইধরনের ভ্রান্তিমূলক ফলাফলের কারনে মহামারী আরও দ্রুত ছড়িয়ে যায়।
পরীক্ষার সময় কেন এই ধরনের ফলস নেগেটিভ রেজাল্ট আসে, তার সাম্ভাব্য কারণগুলি আলোচনা করা হল:-

⬛করোনাভাইরাস পরীক্ষার সময় কী ঘটে?

রোগীর দেহে SARS-CoV-2 ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে, প্রথমে রোগীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে, তারপর পলিমারেজ চেন রিয়্যাকশন (PCR) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
এক্ষেত্রে ‌টেকনিশানরা যেভাবে স্যাম্পেল কালেকশন করে তার পাঁচটি আলাদা কৌশল রয়েছে।

সোয়াব টেস্ট – গলা বা নাকের ভেতর থেকে একটি কটন-সোয়াবের সাহায্যে নমুনা সংগ্রহ করে নেয়।

ন্যাসাল অ্যাসিপিরেট – এক্ষেত্রে টেকনিশিয়ানরা আক্রান্ত ব্যাক্তির নাকের মধ্যে একটি স্যালাইনের দ্রবণ বাইরে থেকে ঢুকিয়ে দেন করেন এবং তারপরে একটি নলের মাধ্যমে ঐ স্যালাইনের দ্রবণ টেনে সংগ্রহ করেন।

ট্র্যাকিয়াল অ্যাসপিরেট – এখানে, টেকনিশিয়ান প্রমমে রোগীর ফুসফুসে ব্রঙ্কোস্কোপ নামে একটি নল ঢুকিয়ে দেন। এই ব্রঙ্কোসকপ এর মুখে একটি লাইট এবং একটি স্যাম্পল কালেকটিং ডিভাইস যুক্ত থাকে। স্যাম্পল কলেক্টিং ডিভাইসটির সাহায্যে ব্রংকিওল থেকে স্যাম্পল কালেক্ট করা হয়।

স্পুটাম টেস্ট– এই ধরণের নমুনা সংগ্রহ কফ্সহ কাশি হচ্ছে এমন রোগীদের জন্য উপযুক্ত। এখানে, টেকনিশিয়ান রোগীর গলা থেকে শ্লেষ্মা এবং লালা সংগ্রহ সংগ্রহ করে।

রক্ত পরীক্ষা– এখানে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে রোগীর দেহ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

https://i1.wp.com/upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/8/80/One-step_vs_two-step_RT-PCR.jpg?w=640&ssl=1

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পলিমারেজ চেইন রিয়্যাকশন (PCR) নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আসলে PCR হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে খুব কম সময়ে একটি মাত্র DNA থেকে কয়েক মিলিয়ন DNA প্রতিলিপি তৈরী করা যায়।
তবে, SARS-CoV-2 একটি RNA ভাইরাস, তাই এক্ষেত্রে প্রথমে এই RNA থেকে DNA তৈরী করে নিতে হয় । এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হয় একটি এনজাইম, রিভার্স-ট্রান্সক্রিপ্টেস (RT)। সুতরাং, সংগৃহীত নমুনার মধ্যে SARS-CoV-2 ভাইরাস উপস্থিত রয়েছে কিনা তা জানতে ডাক্তারদের RT-PCR প্রয়োজন।

বেশিরভাগ দেশেই চিকিৎসা সংস্থাগুলি SRS-Cov-2 ভাইরাসের সনাক্তকরণের জন্য RT-PCR ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করছেন। তবে হ্যাঁ, নমুনা সংগ্রহের সময় বা এবং পরীক্ষা পদ্ধতির কোনো ধাপে কিছু ভুল থাকার কারণে ফলস্ নেগেটিভ রেজাল্ট আসতে পারে।
এবার আমরা কোথায় ভুল হবার সম্ভাবনা রয়েছে, আসুন আমরা জেনে নিই:-

(1) নমুনা সংগ্রহ:-

টেস্টিং-এর জন্য রোগীর নাক এবং গলার থেকে সোয়াব সংগ্রহ করতে হয়। যেহেতু এক্ষেত্রে টেকনিশিয়ানরা নমুনা সংগ্রহ করার জন্য সোয়াব স্টিকটি গলায় বা নাকে প্রবেশ করায়, তাই এই সময় স্থির হয়ে বসে থাকাটা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। তার উপর বর্তমানে আক্রান্তদের নির্বাচিত করার জন্য প্রত্যেকটি দেশে প্রচুর পরিমাণে টেস্টিং করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অনেক টেকনিশিয়ানরেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পান নি। নমুনা সংগ্রহের সময় কোন ত্রুটি হলে RT-PCR করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ RNA পাওয়া সম্ভব হয় না।

(2) করোনা আক্রান্তের উপসর্গগুলি বহিঃপ্রকাশ সঠিকভাবে ঘটেনি এই ধরণের রোগীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা:-

এই ধরনের রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করলে, সেইসময় নমুনা সংগ্রহ করলে, নমুনায় যথেষ্ট ভাইরাল লোড থাকে না। ফলে এই সময়‌ নমুনা সংগ্রহ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফলস্ নেগেটিভ রেজাল্ট আসে। আবার এদিকে কিছুদিনের মধ্যেই COVID-19 সংক্রমণের লক্ষণগুলি দেখাতে শুরু করেন, তখন যখন চিকিৎসকরা পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। দ্বিতীয় পরীক্ষার সময়, পজেটিভ ফলাফল দেখা যায়।

পরিশেষে, আমরা যেটা বলতে চাই, এই সংক্রমণ প্রতিরোধের সেরা উপায়টি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। তবে আপনি যদি COVID-19 মহামারীর কোনও লক্ষণ অনুভব করেন তবে তা মেডিক্যাল কর্মীদের কাছে তা গোপন করবেন না। সঠিক সনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা শুরুর জন্য একটি পরীক্ষা করার সময় তাদের সাথে সহযোগিতা করুন।

COVID-19-এর মতো যে কোনো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা একটি অপরিহার্য কৌশল। চেন সিস্টেমে সংক্রমণ এক জনের থেকে অন্য জনে ছড়িয়ে পড়ে, সেই চেন ব্রেকের দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যাক্তির সঠিক স্ক্রিনিং বা পরীক্ষার অত্যন্ত প্রয়োজন। COVID-19 পজেটিভ লোককে আলাদাভাবে রেখে, উপযুক্ত পর্যবেক্ষণে রেখে তার সঠিক চিকিৎসা করা দরকার। মনে রাখা দরকার যে কোনো উপসর্গ ছাড়াও আমাদের দেহে পসিটিভ থাকতে পারে । সরকার হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (PPE) সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ভেন্টিলেটরি পরিষেবাগুলির সাথে আরও আইসিইউ তৈরিতে জোর দিতে হবে।সাধারণ মানুষের কাজের অভাব এই সময় ভয়াবহ আকার ধারন করবে। সরকারের উচিত লকডাউন চলাকালীন এই ধরনের অসহায় দরিদ্র মানুষগুলোর কাছে সরকারি সাহায্য ঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কিনা, তা নজরে রাখা। ” – বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অবস্থিত জেফারসনের নিউরো সায়েন্টিস্ট ডঃ বিশ্বরূপ ঘোষ (নিউক্র্যাড এলএলসি এবং নিউক্র্যাড হেলথ্ ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা)।

নিউক্র্যাড স্বাস্থ্য কথা – সুস্থ পরিবার, সুস্থ সমাজ । নিউক্র্যাড হেলথ পড়ুন আর স্বাস্থ্য বিজ্ঞান তথ্য সংগ্রহ তে এগিয়ে থাকুন ! শেয়ার করে আমাদের সমাজের সচেনতা বাড়াতে সহযোগিতা করুন । আপনারা পেজ টি লাইক করুন ।

Write your comments

%d bloggers like this: