স্ট্রোক – বর্তমান দিনের এক ভয়াবহ সমস্যা ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ

Image credit: Blausen Medical Communications, Inc.

Sharing is caring!

Reading Time: 2 minutes

নিউক্র্যাড হেলথ বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদন

স্ট্রোক এবং হার্টের অসুস্থতা দুটিই ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণ। ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আমাদের দেশে স্ট্রোক এবং কার্ডিয়াক রোগীদের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই, এই দুই অসুস্থতার কারণে ভারতে প্রায় ২৮.১ শতাংশই মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ঐই চিত্র সমানভাবে হতাশাজনক। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্রোক মৃত্যুর পঞ্চমতম প্রধান কারণ। এটি অনেক প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেই গুরুতর হয়ে পড়ে এবং হাসপাতালে ভর্তির দিকে পরিচালিত করে। আমেরিকাতে প্রতি বছর প্রায় ৭৯৫০০০ জন্ ব্যক্তি এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকেরা স্ট্রোকের প্রকোপ রুখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্ট্রোক কী?
কোনো কারনে যদি মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলির ফেটে যায় বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, বা মস্তিষ্কে খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহকারী ​​কৈশিকনলগুলিতে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে স্ট্রোক হয় । অপর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং খাদ্য সরবরাহের অভাবের কারণে মস্তিষ্কের কোষগুলিতে গুরুতর ক্ষতি দেখা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে। এটি এমন একটি জরুরি অবস্থা; যদি‌ তৎক্ষণাৎ কোন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া যায় এবং সঠিক চিকিৎসা হয় তাহলে কিন্তু মৃত্যুর রুখে দেওয়া সম্ভব।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলি কী কী?
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলি সনাক্তকরণ করতে পারলেই নেক জীবন বেঁচে যেতে পারে।
আসুন আমরা সবাই সেগুলি জেনে নিই:-

  • অন্যের শব্দ বলতে এবং বুঝতে অসুবিধা। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা বিভ্রান্তিও অনুভব করতে পারে এবং একই বাক্য বারবার পুনরাবৃত্তি করতে পারে। কিন্তু কথাগুলো শ্রোতার কাছে ঝাপসা বা অদ্ভুত বলে মনে হবে।
  • মুখ, বাহু বা পায়ে হঠাৎ অসাড়তা। এটি শরীরের এক বা উভয় পাশেই হতে পারে।
  • আপনি ঐ ব্যাক্তিকে উভয় হাত মাথার উপরে তুলতে বলতে পারেন। যদি তাদের মধ্যে একটি হঠাৎ করে পড়ে যায় তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া ভাল।
  • এক বা উভয় চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে পড়া।
  • মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং বমি বমিভাবের সাথে গুরুতর মাথাব্যথা।
  • দেহের ভারসাম্য হ্রাস এবং হাঁটার ক্ষেত্রে অসুবিধা।
  • হাসতে অসুবিধা, মুখের একটি অংশ হঠাৎ ঢুকে যেতে পারে।

স্ট্রোকের প্রতিরোধমূলক কৌশল গুলো কী কী?
স্ট্রোক যদিও একটি মারাত্মক অবস্থা তবুও অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার এই পরিস্থিতি রোধ করতে পারে। জীবনযাত্রায় কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন জেনে নেওয়া যাক।

ধুমপান ত্যাগ:-
অ্যাক্টিভ এবং প্যাসিভ ধূমপায়ী উভয়ের মধ্যেই স্ট্রোকের ঝুঁকি যথেষ্ট পরিমাণে বেড়ে যায়। এটি মূল কারণ হল সিগারেটে উপস্থিত রাসায়নিকগুলি হৃৎপিণ্ডের রক্ত পরিবহনকারী ​​কৈশিকনলগুলির মারাত্মক রকমের ক্ষতি করতে পারে। সিগারেটে উপস্থিত নিকোটিন রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে এবং যা স্টোকের ট্রিগার হিসাবে কাজ করে।

অ্যালকোহল পান সীমাবদ্ধ করুন্:-
অত্যধিক অ্যালকোহল স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এটি দেহে ট্রাইগ্লিসারাইড স্তর বৃদ্ধি করে এবং এথেরোস্ক্লেরোসিসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তবে পরিমিতভাবে পান করলে (প্রতিদিন কেবল এক বা দুটি পানীয়) স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকগুনে হ্রাস করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ
আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন জাতীয় সমস্যা থাকে তবে নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকুন। একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক কম হয়ে যায়। ডায়েটে অ্যালকোহল এবং সোডিয়াম ইনটেক সীমিত করা গেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা:-
ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মান সীমার বাইরে থাকলে তা স্ট্রোকের ঝুঁকি 2 থেকে 4 গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে তোলে। এটি ধমনীর ভিতরে চর্বির পুরু স্তর তৈরি করে এবং মস্তিষ্কে রক্ত ​​সরবরাহকারী নালী গুলিতে দলা তৈরী করে, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে স্ট্রোক হবার সম্ভাবনা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খান ও সাথে ব্যায়াম করা অভ্যাস করুন:-
আপনার ডায়েটে পর্যাপ্ত তাজা ফল, হাই ফাইবার যুক্ত শাকসব্জী, গোটা শস্য এবং বাদাম অন্তর্ভুক্ত করুন।
ডিপ-ফ্রাই, পিজ্জা, বার্গার, চকোলেট এবং আইসক্রিম জাতীয় জাঙ্ক ফুডের ব্যবহার সীমিত করুন।
খুব বেশী পরিমাণে লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন, যা স্ট্রোকের ঝুকি অনেক কম করবে।

সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন কমপক্ষে 30 মিনিট করে ওয়ার্কআউট করুন। স্ট্রোক প্রতিরোধে বায়বীয় এবং কার্ডিও অনুশীলন অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এর দ্বারা আপনার ওজনো ঠিক থাকবে।

আজকে স্ট্রোকের লক্ষণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণমূলক এই প্রবন্ধটি এটুকুই। সতর্ক থাকুন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন, সুস্থ থাকুন।

Write your comments

%d bloggers like this: