কোভ্যাক্সিন এবং জাইকভ-ডি সাফল্যের সাথে পৌঁছল দ্বিতীয় পর্যায়ের হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে

Reading Time: 3 minutes

ডঃ শুভময় ব্যানার্জী, পিএইচডি, নিউক্র্যাড হেলথ বাংলার প্রতিবেদন, আগস্ট ২০, ২০২0

ভারতে বর্তমানে ২৭ লক্ষেরও বেশী মানুষ নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কবলে। ইতিমধ্যেই প্রান হারিয়েছেন ৫২ হাজারের বেশী মানুষ। তবে, তার মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন প্রায় ২ লক্ষ মানুষ। এই সময়ে ভীষণ ভাবে দরকার ভ্যাকসিন। যা কোভিড-১৯ কে প্রতিহত করে মানুষের মধ্যে শক্তিশালী ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। বিশ্বের বিভিন্ন ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলির সাথে ভারতের ছয়টিরও বেশী নামকরা কোম্পানি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গবেষণায় এগিয়ে আছে। এদের মধ্যে ব্যাঙ্গালোরের ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ICMR (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ) ও পুনের NIV (ন্যাশনাল ইন্সিটিউট অফ ভাইরোলজি) এর সাথে যৌথ গবেষণায় “কোভ্যাক্সিন” (Covaxin) নামে প্রথম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করে। এই বছরের জুন মাসেই কোভ্যাক্সিন DCGI (Drug Controller General of India) থেকে হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পায়। ভারত বায়োটেকের বৈজ্ঞানিকরা জুলাই মাসের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সাফল্যের সাথে শেষ করেছেন। অল ইন্ডিয়া ইন্সিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স (AIIMS) নিউ দিল্লী, AIIMS পাটনা , পোস্ট গ্রাজুয়েট ইন্সিটিউট (PGI) অফ মেডিক্যাল সায়েন্স, রোহতাক সহ সারা ভারতের মোট ১২টি সংস্থায় কোভ্যাক্সিনের ফেজ-১ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলে। এই সংস্থাগুলিতে মোট ৩৭৫ জন সুস্থ ভলান্টিয়ারের উপর কোভ্যাক্সিনের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন ও ভ্যাকসিনের কোন বিরূপ প্রভাব তাঁদের মধ্যে দেখা যায় নি।ভারত বায়োটেক ইতিমধ্যেই তাদের নিষ্ক্রিয় (Inactivated) ভ্যাকসিন নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে। 

নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিন (Inactivated Vaccine): রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে পরীক্ষাগারে তাপ প্রয়োগে, রেডিয়েশানের সাহায্যে অথবা রাসায়নিক পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় করা হয় অর্থাৎ তার সংক্রমণ ক্ষমতাকে বিনষ্ট করে ফেলা হয়। এই নিষ্ক্রিয় জীবাণুকে ভ্যাকসিন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এই নিষ্ক্রিয় জীবাণুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট টি-লিম্ফোসাইট ও অ্যান্টিবডি তৈরী হয়। 

নিউক্র্যাড হেলথ নিয়ে আসছে নিউক্র্যাড হেলথ হাব – বাংলায় এক নতুন স্টার্ট আপ এক বাঙালি বিজ্ঞানীর হাত ধরে।

আমেদাবাদের বায়োফার্মা কোম্পানি জাইডাস ক্যাডিলা ভারত বায়োটেকের প্রায় একই সাথে তাদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন “জাইকভ-ডি” (ZyCoV-D) তৈরী করে। প্রি-ক্লিনিক্যাল অ্যানিম্যাল ট্রায়ালে জাইকভ-ডি আশাপ্রদ ফল করায়, জাইডাস ক্যাডিলা DCGI থেকে হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন পায়। ভারতের ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োটেকনোলজির (DBT, Govt. Of India) অনুমোদন সাপেক্ষে তারা মোট ১,০৪৮ জন ভলান্টিয়ারের উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল-I/II-তে তাদের প্লাসমিড ডিএনএ ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করে। জাইকভ-ডি প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছে। বর্তমানে এটি দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রবেশ করেছে।

ডিএনএ (DNA Vaccine): রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর ডিএনএ সিকোয়েন্স থেকে কৃত্রিম ভাবে গবেষণাগারে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে তৈরী করা হয় রিকম্বিনেন্ট প্লাসমিড ডিএনএ। তাতে জীবাণুর অ্যান্টিজেন সৃষ্টিকারী জিনকে পরিবর্তিত করে (জিনের সংক্রমণ সৃষ্টিকারী সিকোয়েন্সকে বাদ দেওয়া হয়) প্রবিষ্ট করা হয়। এই প্লাসমিড ডিএনএ ভ্যাকসিনকে শরীরে প্রবেশ করালে জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন neucradhealth@gmail.com

ICMR প্রধান ডঃ বলরাম ভার্গব জানিয়েছেন এই দুটি নভেল করোনা ভ্যাকসিন সাফল্যের সাথে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ করেছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে পৌঁছে গেছে। প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিনগুলির কার্যকারিতা, এবং নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। 

ভারত বায়োটেক এবং জাইডাস ক্যাডিলার গবেষকরা দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে অনেক বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরীক্ষা চালাবেন। এই গোষ্ঠীকে প্রধানত শিশু, সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষ ও বৃদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়াও দুটি ভ্যাকসিনের বিভিন্ন ডোজ নিরুপন করে তাদের নিরাপত্তার দিক, ইমিউন রেসপন্স ও যদি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সন্ধান পাওয়া যায় তা খতিয়ে দেখা হবে। কোভ্যাক্সিন ক্লিনিক্যাল ফেজ-II ট্রায়ালে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর ভলান্টিয়ারদের থেকে রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা ও পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। ভারতের মানুষ অধীর আগ্রহে দ্বিতীয় পর্যায়ের ফলাফল জানার অপেক্ষায় আছেন।

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন neucradhealth@gmail.com

তথ্যসূত্রঃ 

  1. Zhang N, Li C, Hu Y, et al. Current development of COVID-19 diagnostics, vaccines and therapeutics. Microbes Infect. 2020;22(6-7):231-235. doi:10.1016/j.micinf.2020.05.001
  2. Kaur SP, Gupta V. COVID-19 Vaccine: A comprehensive status report [published online ahead of print, 2020 Aug 12]. Virus Res. 2020;198114. doi:10.1016/j.virusres.2020.198114
  3. hen WH, Strych U, Hotez PJ, Bottazzi ME. Curr Trop Med Rep. 2020 Mar 3; :1-4. Epub 2020 Mar 3.
  4. Al-Kassmy J, Pedersen J, Kobinger G. Viruses. 2020 Aug 7; 12(8). Epub 2020 Aug 7.
  5. Coban C, Kobiyama K, Jounai N, Tozuka M, Ishii KJ. DNA vaccines: a simple DNA sensing matter?. Hum Vaccin Immunother. 2013;9(10):2216-2221. doi:10.4161/hv.25893
  6. Sanders B, Koldijk M, Schuitemaker H. Inactivated Viral Vaccines. Vaccine Analysis: Strategies, Principles, and Control. 2014;45-80. Published 2014 Nov 28. doi:10.1007/978-3-662-45024-6_2
  7. https://zyduscadila.com/public/pdf/financial/Zydus_Covid_Vaccine_Update.pdf
  8. https://www.bharatbiotech.com/bharat_news.html
Panel discussion with Doctors (ডাক্তার ও উপদেশ )

Write your comments

%d bloggers like this: