যন্ত্রের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একগুচ্ছ রোগ সনাক্তকরণ
কলমে- স্পূর্থী রমন, অনুবাদ ও অক্ষরদানে-মোনালিসা মহান্ত, নিউক্র্যাড হেলথ বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদন মার্চ 29, 2019
2016 সালে ভারতবর্ষের প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মানুষ টিউবারকিউলোসিস এ আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। 2018 সালে, আনুমানিক 16700 জন মশার কামড়ে, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছিল।
এছাড়াও সারভিক্যাল ক্যান্সারের (মহিলাদের দেহে এক সাধারণ ক্যান্সার) কারণে বছরে প্রায় 74 হাজার মানুষ মারা যায়। এমনকি অনেকে পরজীবীর আক্রমণের ফলে ডায়রিয়া হয় সেই ডায়রিয়ার কারণে হাজার হাজার ব্যক্তি প্রতিনিয়ত মারা যান। এই সমস্ত রোগ গুলি প্রতেকটি চিকিৎসাযোগ্য এবং সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু আমাদের ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির চিকিৎসা ব্যবস্থা অনুন্নত। এছাড়াও চিকিৎসা জগতের সঙ্গে যুক্ত দক্ষ ব্যক্তি ও চিকিৎসকের খুবই অভাব।
সম্প্রতি, ভারতীয় ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (দিল্লি) গবেষকরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং ডিপ লার্নিং টেকনোলজির ব্যবহার করে এই সমস্ত রোগ সনাক্ত করার জন্য একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন। যার সাহায্যে খুব কম খরচে, কম বিদ্যুত ব্যায় করে বিভিন্ন রোগ নির্নয় করা সম্ভব হবে।
গবেষকরা এমনভাবে এই হার্ডওয়্যার সিস্টেমটি তৈরি করেছেন যা ‘রাসবেরী পাই’ নামক ক্ষুদ্র কম্পিউটারের সাহায্যে চলবে, আর এর একটি ইনফ্রারেড-সংবেদনশীল ক্যামেরা সংযুক্ত করা আছে।
ভারী ভারী, বড়ো সরঞ্জামের তুলনায়, এটি খুবই ছোট্ট, পোর্টেবল এবং সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ খরচে চলে । হার্ডওয়্যার সিস্টেমটি AI-ভিত্তিক অ্যালগরিদমগুলির ব্যবহার করে প্রোগ্রাম করা আছে; যা যে কোনো ক্ষুদ্র জীবাণুর উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে। ডিভাইসটি ব্যবহার করে ম্যালেরিয়া, টিউবারকিউলোসিস, অন্ত্রের পরজীবী এবং সার্ভিকাল ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন রোগ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব ।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মতো জায়গাতেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই গবেষণাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান গবেষক মান্নান সুরি জানিয়েছেন, “অনেক হার্ডওয়্যারই AI মডেল ব্যবহার করে, কিন্তুু রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই সমস্ত যন্ত্রগুলো প্রায় এক ঘন্টারও উপর সময় নেয় যায়, এছাড়াও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু আমরা যে মডেলটি তৈরি করেছি সেই মডেলটি অত্যন্ত ছোট, খুব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই চালানো যায়, যেখানে খুশি সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া যায়। গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে যেখানে এখনো সঠিক স্বাস্থ্যপরিসেবা পৌঁছায়নি সেই সমস্ত জায়গা গুলোর ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী হবে।”
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয় না করেই, তাদের উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়, যা ত্রুটি-প্রবণ হতে পারে। আর এই কারনেই মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়, ড্রাগ রেজিস্টেন্ট এর সংখ্যা বাড়ে, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার কারনে অনেকেই অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হন। এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এই ডিভাইসটি অত্যন্ত কার্যকর এবং আশা করা যায় ডিভাইসটি ব্যবহার করে হাজার হাজার নিরীহ প্রান এবার থেকে রক্ষা করা যাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সম্মেলনে ডিভাইসটি সম্পর্কে সমস্ত তথ্য প্রথম প্রকাশ করা হয়। ইতিমধ্যেই এই আবিস্কার 2018 সালে, “গান্ধী তরুণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী” পুরস্কার ও পেয়ে গেছে। গবেষকরা আশা করছেন যে তাদের আবিষ্কার করা এই যন্ত্র খুব তাড়াতাড়ি জনকল্যাণের কাজে আসবে।