ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস ৭৫ টি দেশে কম বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে

Coronaviruses are a group of viruses that have a halo, or crown-like (corona) appearance when viewed under an electron microscope.

Reading Time: 4 minutes
নিউক্র্যাড হেলথ বাংলা ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২০

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ চীনের হুবোই প্রদেশের উহান গহরে এক অজানা রহস্যময় ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা হয়। ভাইরাসটি প্রাথমিকভাবে নিউমোনিয়া রোগের যাবতীয় উপসর্গ ঘটাতে থাকে রোগীর শরীরে মাত্র এবং তিন মাসের মধ্যে এই ভয়ঙ্কর ভাইরাসটি কমপক্ষে ৯১০০০ জন মানুষকে আক্রমণ করে এবং ইতিমধ্যেই এর প্রকোপে ৩১২৫ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। ডাক্তাররা ভাইরাসটির গতিবিধি, লক্ষণ ও আক্রান্ত রোগীর শরীরে উপসর্গ দেখে এই রোগ সৃষ্টিকারী প্যাথোজেনকে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করেছেন, যেটি SARS ভাইরাসের ই পরিবারে। বর্তমানে চীন ছাড়াও আরো ৭৫ টি দেশ এ কম বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে । ভারতেও করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। পৃথিবীর বহুদেশ নিজেদের দেশের পর্যটকদের চীন ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং বাধ্য হয়ে যেতে হলে ভাইরাইসটির ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। নিচে ভাইরাসটির বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা কর হল।

করোনাভাইরাস কি?

করোনাভাইরাস হলো coronaviridae পরিবারের একজন সদস্য এবং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের তলায় রাখলে ভাইরাসটি অনেকটা একটি পেরেকের মতো দেখতে লাগে। বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির নাম করোনা ভাইরাস রেখেছেন কারণ ভাইরাসটিতে যেন অসংখ্য মুকুটের মতো অভিক্ষেপ মিলে একটি বলয়ের মতো অংশ গঠন করে। আরো গভীর ও নিবিড় গবেষণায় দেখা গেল ওই পেরেকের ন্যায় অভিক্ষেপগুলির দ্বারাই ভাইরাসটি Host cell বা আশ্রয়দাতা কোষটির সাথে আটকে গিয়ে প্রজনন ঘটায়। ভাইরাসটির কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি একটি RNA (Ribonucleic Acid) দ্বারা গঠিত এবং ঐটি Severe Acute Respiratory Syndrome বা তীব্র শ্বাসকষ্ট জণিত লক্ষণ (SARS) ও মিডল ইষ্ট রেসপেরেটরি সিনড্রোম বা (MERS) এর লক্ষণ সমূহ প্রকাশ করে।

এই মুহূর্তে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা ভাইরাসটির ছড়িয়ে পরা নিয়ে অসম্ভব শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। ২০০২ এর নভেম্বর থেকে ২০০৩ এর জুলাই মাস এর মধ্যে চীনে SARS এর প্রার্দুভাবের ফলে প্রায় ৮০৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছিল এবং যার মধ্যে অন্তত ৭৭৪ জনের মৃত্যু অবধি ঘটেছিল। ঠিক তেমনি ২০১২ সালে MERS এর প্রার্দুভাবে সৌদি আরবে ১২৪ জনের আক্রান্তের মধ্যে ৫২ জন মারা গিয়েছিল।

চীনে করোনাভাইরাসের উৎস:

বেশীরভাগ মানুষের হিসাব অনুযায়ী মারাত্মক করোনাভাইরাসের আসল উৎস হলো উহান শহরে হুয়ানান সিফুড পাইকারী বাজারে (Huanan Seafood Wholesell Market)  যেটি হলো সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর মাংস বিক্রি হবার আড়ৎ। বাদুড় হলো একটি প্রধান উৎস কিন্তু বাদুড় থেকে কোন প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ালো সেটা নিযে বহু দ্বিমত আছে। কখন ও সাপের কথা বলা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক তথ্য এর ভিত্তি তে আবার কখনো সাপের তথ্য নাকচ করা হচ্ছে।

কত ধরনের করোনা ভাইরাস / করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভাগঃ

এখনও অবধি বিজ্ঞানীরা ছয় ধরনের করোনাভাইরাসের প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন যেগুলি মানবশরীরে সংক্রমণ ঘটায়।

  • 229E (Alpha Coronavirus)
  •   NL63 (Alpha Coronavirus)
  •   OC43 (Beta Coronavirus)
  • HKVI (beta Coronavirus)
  • MERS – COV (Causing MERS a, Middle East Respiratory Syndrome).
  • SARS –COV (Causing SARS or, Severe Acute Respiratory Syndrome).

এইগুলির মধ্যে প্রথম চারটি ধরনের করোনা ভাইরাসের খুব মৃদু প্রকোপ দেখা যায় কিন্তু শেষের দুই প্রজাতির মারাত্বক ভয়াবহ প্রকোপ ফেলে। কিন্তু হু আজকের এই ভাইরাস এর নাম দিয়েছে COVID-19।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ সমূহ 

মানবশরীরে করোনাভাইরাস শ্বাসযন্ত্রের উপরিভাগ (Upper Respiratory Tract) এর আক্রমণ করে এবং সাধারণ সর্দিকাশির মতো উপসর্গ দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি নাক দিয়ে জল পড়া, গলায় ব্যাথা, জিভে ঘা, কাশি, জ্বর ও মাথার যন্ত্রণায় ভুগতে থাকে। কিন্তু যদি MERS-COV বা SARS-COV এর আক্রমণ ঘটে বা সংক্রমণ ঘটে তবে উপরের উপসর্গ গুলি মারাত্বক হয়ে উঠে। রোগী প্রচন্ড জ্বর, ডাইরিয়া, গা-বমি, বমি করা, নিঃস্বাস-প্রস্বাস এ অসুবিধা, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে। এইসব অসুবিধার সাথে সাথে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস ও কিডনির অসুখের মতো জটিলতাও দেখা দেয়। মৃত্যুর হারের দিক দিইয়ে বিচার করলে নোভেল করোনাভাইরাসের তুলনায় MERS-COV তে অনেক বেশী মৃত্যু ঘটে। সেন্টার ফর ডিজিস্‌ কন্ট্রোল ও প্রিডেনসন্‌ (Centre For Diseases Control And Prevention) এর সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি দশজনে তিন থেকে চারজন নতিস্বীকার করেছে এই বিপদজনক সংক্রমনের কাছে। শিশু বা কিশোর/কিশোরী দের এই হার খুব কম (<১%) কিন্তু বয়স্ক দের হার বেশি।

আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে করোনাভাইরাসের জীবানু কিকরে সুস্থ মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে যায়?

যখন একজন সুস্থ মানুষ সরাসরি কোনো সংক্রামিত প্রাণীর সংস্পর্শে আসে তখনই সংক্রমন মানুষে ছড়ায়। এইবার ওই সংক্রমিত মানুষটির কোনোরকম দেহ নিঃসরন অর্থাৎ হাঁচি, কাশি, থুথু ও অন্যান্যর সংস্পর্শে আসে তবে করোনাভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির জামাকাপড় বা খাবার থালাবাসন ধরলে, করমর্দন অর্থাৎ হ্যাভসেক করলে, হাঁচি-কাশির সামনে থাকলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে সকলের মধ্যে।

আদৌ কি করোনাভাইরাসের চিকিৎসা বা নিরাময় সম্ভব?

এই মূহূর্তে করোনাভাইরাসের সেই অর্থে কোনো চিকিৎসা আবিষ্কার করা যায়নি, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী তার নিজস্ব স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতানুযায়ী সুস্থ হয়। প্রচুর জল বা অন্যান্য পানীয় গ্রহণ করা, বিশ্রাম এবং ব্যাথা কমানোর ওষুধ এই রকম কিছু সাধারণ বিধি মেনে চললে উপসর্গের থেকে খানিকটা আরাম পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু উপসর্গ গুলি যদি অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে চলে যায় অর্থাৎ রোগী যদি খুব বেশী মাত্রায় কষ্ট পেতে শুরু করে তবে ডাক্তাররা অবস্থার উন্নতিতে উপসর্গ গুলি বিচার করে কিছু ওষুধ নির্ধারন করেন। তবে ক্লিনিকাল ট্রায়ালস শুরু হয়েছে চীন এ যাতে এন্টিভাইরাল চিকিৎসা আগামী দিনে কোরোনার প্রকোপ থেকে মানুষ জাতি কে রক্ষা করতে পারে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়া আটকাতে কিছু উপায়গুলি হল-

  • বার বার অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া দরকার।
  • হাঁচি কাশির সময় মুখে পরিষ্কার কাপড় দিতে আড়াল দিতে হবে।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে সুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • কমিউনিটি জমায়েত থেকে দূরে থাকা

সামান্য এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া থেকে অনেকটাই প্রতিরোধ করা যাবে।

Write your comments

%d bloggers like this: