করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আপনার রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনাকে আরো সক্রিয় করে তুলতে কী করনীয়?

Reading Time: 4 minutes

মোনালিসা মোহন্ত, নিউক্র্যাড হেলথ বাংলা

আমাদের প্রচেষ্টা আপনার উপযোগী মনে হলে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না ।

করোনা ভাইরাস মহামারীটি ইতিমধ্যে ১৯৮ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ৮ লাখেরও বেশি লোককে সংক্রামিত করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি হয় দ্বিতীয় পর্যায় বা তৃতীয় পর্যায়ে এসে মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে একবার পৌঁছে গেলে ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং। তাই একদম প্রথম পর্যায় থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং আমাদের ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়িয়ে তুলে এই মহামারী রোধ করার প্রচেষ্টা করাই একমাত্র উপায়। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে ন্যূনতম সংখ্যক রোগীরই জরুরীভিত্তিক চিকিৎসা এবং ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হয়। করোনা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব রোধ করার জন্য, ইমিউনিটি কীভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারেন ? শারিরীক ভাবে দুর্বল বা যে সব ব্যাক্তির ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল, তাদের উপর করোনা ভাইরাস প্রভাব ভীষণ রকম খারাপ প্রভাব পড়েছে।

করোনভাইরাস সংক্রমণের সময় ইমিউন সিস্টেমে কীরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় ?

যখন করোনাভাইরাস বা SARS-CoV-2 আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, তখন আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের কোষগুলিতে একপ্রকার ভীষণ শক্তিশালী ইমিউন প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। করোনা আক্রান্তের বিভিন্ন উপসর্গগুলি দেখা দেবার ৭ থেকে ৯ দিন পর্যন্ত রোগীর রক্তে ইমিউনোগ্লোবুলিন G এবং ইমিউনোগ্লোবুলিন M-এর পরিমান বাড়তে থাকে রোগীর রক্তে । রোগজীবাণু ধ্বংসকারী হেল্পার T- সেল, কিলার T- সেল এবং B-সেল এর সংখ্যাও যথেষ্ট বৃদ্ধি পায় । আক্রান্ত ব্যাক্তির ইম্যিউন সিস্টেম এভাবেই দেহ থেকে করোনা ভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যার। আক্রান্তের দেহে ইমিউনোগ্লোবুলিনের এই বৃদ্ধি, সংক্রমণের ২০ দিন অবধি লক্ষ্য করা যায়। ১২ তম দিন থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তির ইম্যিউনিটি সিস্টেম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে এবং সুস্থতার লক্ষণগুলি ফুটে ওঠে।

COVID-19 সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিজের ইমিউনিটি কীভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারেন, তার কিছু উপায় আলোচনা করা হলো:-

কম-কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডায়েট:-

মহামারী চলাকালীন সুস্থ থাকার সর্বোত্তম উপায়গুলির মধ্যে একটি হল সঠিক খাদ্যাভ্যাস। বার আগে আপনার খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত শর্করা বা চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণ কম করুন এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের অংশ বাড়ান। ডিম, মাছ এবং মাংসের মতো প্রাণীজ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। যদি নিরামিষাশী হন বি প্রানীজ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার না পান, তবে আপনি আপনার ডায়েটে উদ্ভিজ বিভিন্ন প্রোটিন যেমন ডাল, সবুজ মটর, সিম, সয়াবিন এবং তোফু ইত্যাদি বেশি বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

শক্তিশালী ইমিউনিটি সিস্টেমের জন্য ভিটামিন A প্রয়োজনীয়। মিষ্টি আলু, পালং শাক, ব্রকলি, স্কোয়াশ এবং গাজর জাতীয় খাবার খেলে এতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন A এর প্রয়োজনীতা মেটায় । ভিটামিন C -ও অ্যান্টিবডি এবং লিম্ফোসাইটের পরিমান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। দেহে ভিটামিন C সরবরাহের জন্য কমলা, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর, বাঁধাকপি, ফুলকপি এবং ব্রোকলি জাতীয় খাবার বেশি করে খান।

পরিপূরক খাবার বা সাপ্লিমেন্ট:-

আপনার শরীর যদি খাদ্য থেকে ভিটামিন এবং মিনারেলস তৈরি করতে অক্ষম হয় তবে ডাক্তাররা বিভিন্ন পরিপূরক খাবার খেতে পরামর্শ দেন। করোনাভাইরাস বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন C, ভিটামিন D এবং জিঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল একাডেমি অফ মেডিসিন একদিনে সর্বোচ্চ ২০০০ মিলিগ্রাম অবধি ভিটামিন C খাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে।
শ্বাসযন্ত্রের যেকোনো ধরনের সংক্রমণ এবং সাধারণ সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তুলতে হিসাবে আপনি এই ভিটামিন C সাপ্লিমেন্ট ২৫০-১০০০ মিলিগ্রাম অবধি খেতেই পারেন।

Medications On White Surface

ভিটামিন D একটি ফ্যাটে দ্রবণীয় পুষ্টি যা আপনার শরীরকে রোগ জীবাণু বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে ও ইনফ্লামেশন হ্রাসও করে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে প্রায়শই ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো শ্বাস নালীর অসুস্থতা দেখা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চিকিৎসকরা দিনপ্রতি ১০০০-৪০০০ IU (আন্তর্জাতিক ইউনিট) পর্যন্ত এই ভিটামিন D গ্রহনের পরামর্শ দেন ।

জিঙ্ক সাপ্লিমেন্টগুলিই আপনার শরীরের COVID-19 এর বিরুদ্ধে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন B12 ভাইরাসের রেপ্লিকেশন রেট কমিয়ে দিতে পারে এবং করোনার তীব্রতা হ্রাস করতে পারে।

নিয়মিত ব্যায়াম চর্চা:-

নিয়মিত ব্যায়াম অনুশীলন আপনার শরীর ও মনকে স্বাস্থ্যকর রাখে ও যে কোনও রোগ থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে। ফিটনেস বজায় রাখার জন্য আপনার কোনও শরীরকে কষ্ট দিয়ে কোনো ব্যায়াম চর্চা করার প্রয়োজন হয় না। হালকা বা মাঝারি মাপের যে কোনো অনুশীলন যেমন হাঁটাচলা, জগিং, সাইকেল চালানো, এবং আধ ঘন্টা স্কিপিং আপনার দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। জিমের চেয়ে আপনার বাড়ির টেরেসে বা কোনো উন্মুক্ত জায়গায় এই অনুশীলনগুলি করলে অনেক বেশি ভালো ফলাফল মেলে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এইভাবে, আপনি সূর্য রশ্মি থেকে আপনার নিত্যদিনের ভিটামিন D সংগ্রহ করতে পারেন। ব্যায়াম অনুশীলনের পাশাপাশি, যোগব্যায়াম এবং ধ্যানও আপনার স্ট্রেস কম করতেও সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত ঘুম:-

নিয়মিত সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুম আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, সংক্রমণ প্রতিরোধকারী সাইটোকাইন তৈরীতে সহায়তা করে। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন সকলকে অনাক্রম্যতা বাড়ানোর জন্য ন্যাপিংয়ে পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। আপনি ফিট এবং সক্রিয় থাকার জন্য দুপুরের দিকে কিছুটা ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এটা প্রমনিত যে বার বার ঘুমের বাঘ্যাত আপনার দেহের ইমিউনিটি সিস্টমকে দুর্বল করে তোলে, এবং ফ্লু ভ্যাকসিনের কার্যকরীতা হ্রাস করে দেয়।

তাহলে COVID-19 এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আপনার অনাক্রম্যতা কিভাবে বাড়ানো যেতে পারে তার কয়েকটি উপায় আমরা জানলাম। আপনারা এই টিপসগুলি অনুসরণ করতে পারেন। সাথে সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি যে সমস্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলি অনুশীলন করা প্রয়োজন সেগুলি অভ্যাস করুন।

আমাদের প্রচেষ্টা আপনার উপযোগী মনে হলে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না ।

Write your comments

%d bloggers like this: