অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসর্ডার (ADHD) – আলোচনা

Reading Time: 3 minutes

শুভময় ব্যানার্জী, পিএইচডি, নিউক্র্যাড হেলথ এর প্রতিবেদন, আগস্ট ১৫, ২০২১

বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জগতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে একটি বিশেষ মানসিক রোগ, যার নাম “অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসর্ডার” বা ADHD। সাধারণত এই মানসিক রোগটি শিশুদের মধ্যে দেখা গেলেও বয়ঃসন্ধীকালে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এমনকি অনেক  পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যেও এই রোগের নজির পাওয়া যায়। চিন্তার বিষয় হলো, ADHD রোগীর জীবনের প্রত্যেক পর্যায়ে যেমন, ব্যক্তিগত, সামাজিক, ছাত্রজীবনে এমনকি কর্মজীবনেও ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। 

ADHD আক্রান্ত রোগীর দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট দেখা যায়, একটি হলো অমনোযোগীতা এবং অপরটি ব্যবহারে অতি সক্রিয়তা। এই রোগীরা কোন কাজে সহজে মনোসংযোগ করতে পারেন না, গুছিয়ে কাজ করতে পারেন না, সহজ সিন্ধান্ত গ্রহণে  অসুবিধা হয়, অস্বাভাবিক আবেগপ্রবণ হন অর্থাৎ সার্বিক ভাবে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ভীষণ ভাবে ব্যাহত হয়। তাহলে কিভাবে চেনা যাবে এই জটিল স্নায়বিক রোগ? কেনই বা  হয় এই রোগ? এর চিকিৎসা কি? এই প্রশ্ন সবার। আসুন, আমরা জেনে নি সেই জরুরী বিষয়গুলি। 

ADHD রোগনির্ণয়ের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুটি প্রধান উপসর্গের কথা আলোচনা করা হলো। 

অমনোযোগীতা:

১. ADHD রোগীদের কোন বিষয়ে বিশদে বোঝার ক্ষমতা হ্রাস পায়।

২. নির্দেশ বুঝতে অসুবিধা হয়।

৩. ভালো ভাবে শুনতে অসুবিধা হয়।

৪. কাজ করতে ও কাজ শেষ করতে অসুবিধা হয়।

৫. দৈনন্দিন কাজগুলি ভুলে যায়। 

অতিসক্রিয়তা:

১. সর্বদা অস্থির ভাব দেখা যায়।

২. রোগী অকারণে জোরে ও অতিরিক্ত কথা বলতে থাকে।

৩. অধৈর্য ভাব দেখা যায়।

৪. অকারণে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে।

কিছু ADHD রোগীরা একই সাথে অমনোযোগী এবং অতিসক্রিয় হন, তাদেরকে চিকিৎসকরা “কম্বাইন্ড ADHD” আক্রান্তের শ্রেণীভুক্ত করেন। লক্ষ্য করার বিষয় হলো, পূর্ণবয়স্ক মানুষের ADHD এর উপসর্গ লক্ষণগুলি আলাদা হয়। যেমন, কোন কাজ হঠাৎই ছেড়ে দেওয়া, মেজাজ হারানো, আবেগের দ্রুত পরিবর্তন, আত্মবিশ্বাসের অভাব ঘটা, ভীষণ রেগে যাওয়া ইত্যাদি। 

“একজন গবেষক বিজ্ঞানী হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞান, গবেষণা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর – আপনার স্বাস্থ্য সচেতনতা আপনাকে বিপদের সময় পথ দেখাবে” – বিশ্বরূপ ঘোষ, নিউক্র্যাড হেলথ ফাউন্ডার । আমেরিকা প্রবাসী বাঙালি গবেষক বিজ্ঞানী বিশ্বরূপ ঘোষ তার স্টার্ট আপ নিয়ে আসছেন বাংলা তথা ইন্ডিয়াতে। খুব শীঘ্র নিউক্র্যাড হেলথ হাব এর ডিজিটাল ডাক্তার প্লাটফর্ম শুরু হবে। আপনাদের আশীর্বাদ কামনা করি।

ADHD রোগে আক্রান্ত হবার কারণ: 

ADHD রোগের চিকিৎসা করতে গেলে এই রোগের জৈবিক কারণগুলি জানা খুবই প্রয়োজন। প্রধান কারণগুলি নিচে বর্ণিত হলো।

জেনেটিক কারণ: ADHD আক্রান্ত রোগীর ভাই-বোনদের মধ্যে এই রোগ দেখা গেছে। কিছু জিন যেমন- drd4drd5 (ডোপামাইন রিসেপ্টর জিন) এবং dat1 (ডোপামাইন ট্রান্সপোর্টার জিন) এই রোগ দেখা দেবার জন্যে দায়ী। 

অন্যান্য কারণ: বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে, যেমন দারিদ্রতা, শিশুকালীন যৌন অত্যাচার, অতিরিক্ত কীটনাশক সমৃদ্ধ খাবার খেলে (অর্থাৎ, শরীরে বেশী পরিমানে পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল রাসায়নিক গেলে), গর্ভাবস্থায় মাদক সেবন করলে সন্তানের ADHD হতে পারে, গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত চিনি, জিঙ্কযুক্ত খনিজ লবন এবং পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণে ADHD হবার সম্ভাবনা আছে।

http://www.nchealthzon.com

ADHD চিকিৎসা কিভাবে করা হয়?

ADHD এর রোগনির্ণয় করা কিছুটা শক্ত। কারণ, এই রোগের সাথে মানসিক অবসাদ, দুশ্চিন্তা, আবেগপ্রবণতা ইত্যাদি উপসর্গের বেশ মিল আছে। শুধুমাত্র ADHD সম্পর্কে নিশ্চিত হবার পরেই চিকিৎসা শুরু করা উচিত। বিভিন্ন সমীক্ষা ও গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, এই রোগে সঠিক ওষুধ ও মনোবিদের কাউন্সেলিং ভীষণ জরুরী। প্রধানত, দুই রকম প্রথায় যেমন- ফার্মাকোলোজিক্যাল ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ADHD এর চিকিৎসা করা হয়। কোন ক্ষেত্রে দুই পদ্ধতির কম্বিনেশন করা হয়।

১. ফার্মাকোলজিক্যাল চিকিৎসা: কোন ধরণের ADHD হয়েছে, রোগীর বয়স ও রোগের গতিপ্রকৃতি, কোন অঙ্গের বা ব্যবহারের ওপর প্রভাব, পুরোনো কোন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা আছে কিনা তা দেখে ওষুধ শুরু করা হয়।

প্রথমে ফিজিক্যাল, জেনেটিক এবং নিউরোলোজিক্যাল পরীক্ষা (EEG ও নিউরোইমেজিং), কন্টিনিউয়াস পারফর্মেন্স টেস্ট (CPTs) ও প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে পরিস্থিতি জেনে ওষুধ শুরু করা হয়। ADHD এর দুই প্রধান ড্রাগ হলো অ্যামফিটেমাইন ও মিথাইলফেনিডেট। এদের “সাইকোস্টিমিউলাস ড্রাগ” বলে। এই ড্রাগগুলো মস্তিষ্কে ডোপামাইন এবং নর-এপিনেফরিন হরমোনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রিত করে রোগীর মনোযোগ বাড়ানো ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। 

২. নন-ফার্মাকোলজিক্যাল বা অন্যান্য চিকিৎসা: এই চিকিৎসাকে তিন ভাবে ভাগ করা যায়। ADHD রোগীর ব্যবহারকে স্বাভাবিক ও পরিশীলিত করতে রোগীর পরিবার-পরিজন, বন্ধুবর্গ এবং কর্মক্ষেত্রের মানুষদের সাথে কথা বলে রোগীর সাথে তাদেরকে ব্যাবহার ও মনোভাবের কথা জানা ও কাউন্সেলিউং করা। এছাড়া কগনিটিভ বিহেভিয়ার ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা। রোগীকে নিয়মিত ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম করানো। রোগীর নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা তা দেখা হয়। 

পরিশেষে বলা যায়, ADHD কে একটি ক্রনিক রোগ হিসাবেই ধরা হয়, যার ক্ষতিকর প্রভাব রোগীকে সারাজীবন বহন করতে হয়। তাই সময়ে রোগনির্ধারণ ও চিকিৎসার প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে আরও জানা প্রয়োজন। কোন স্থান, গোষ্ঠী, আলাদা স্নায়বিক জটিলতা এর সাথে যুক্ত কিনা তা গবেষণা চালিয়ে নির্ধারণ করতে হবে, তবেই ভবিষ্যতে ADHD রোধ করা সম্ভব হবে। 

তথ্য সুত্রঃ 

  1. Wilens TE, Spencer TJ. Understanding attention-deficit/hyperactivity disorder from childhood to adulthood. Postgrad Med. 2010;122(5):97-109. doi:10.3810/pgm.2010.09.2206
  2. InformedHealth.org [Internet]. Cologne, Germany: Institute for Quality and Efficiency in Health Care (IQWiG); 2006-. Attention deficit hyperactivity disorder (ADHD): Overview. 2015 Sep 9 [Updated 2018 Sep 20]. Available from: https://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK321129/
  3. Bélanger SA, Andrews D, Gray C, Korczak D. ADHD in children and youth: Part 1-Etiology, diagnosis, and comorbidity. Paediatr Child Health. 2018;23(7):447-453. doi:10.1093/pch/pxy109
  4. Geffen J, Forster K. Treatment of adult ADHD: a clinical perspective. Ther Adv Psychopharmacol. 2018;8(1):25-32. doi:10.1177/2045125317734977
  5. Rodríguez C, González-Castro P, Cueli M, Areces D, González-Pienda JA. Attention Deficit/Hyperactivity Disorder (ADHD) Diagnosis: An Activation-Executive Model. Front Psychol. 2016;7:1406. Published 2016 Sep 21. doi:10.3389/fpsyg.2016.01406

Write your comments

%d bloggers like this: